আবূ তালিবের ইসলাম

131

আল্লামা গোলাম মোস্তাফা যহীর আমানপুরী

অনুবাদ : উযাইর রহমান ও রিয়াজ হুসাইন

আবূ তালিবের ইসলাম প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহি.) [৬৬১-৭২৮ হি.] বলেন:

يَقُولُ الْجُهَّالُ مِنْ الرَّافِضَةِ وَنَحْوِهِمْ مِنْ أَنَّ أَبَا طَالِبٍ آمَنَ وَيَحْتَجُّونَ بِمَا فِي ”السِّيرَةِ“ مِنْ الْحَدِيثِ الضَّعِيفِ وَفِيهِ أَنَّهُ تَكَلَّمَ بِكَلَامٍ خَفِيٍّ وَقْتَ الْمَوْتِ . وَلَوْ أَنَّ الْعَبَّاسَ ذَكَرَ أَنَّهُ آمَنَ لَمَا كَانَ قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمُّك الشَّيْخُ الضَّالُّ كَانَ يَنْفَعُك فَهَلْ نَفَعْته بِشَيْءِ؟ فَقَالَ: وَجَدْته فِي غَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَشَفَعْت فِيهِ حَتَّى صَارَ فِي ضَحْضَاحٍ مِنْ نَارٍ فِي رِجْلَيْهِ نَعْلَانِ مِنْ نَارٍ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ وَلَوْلَا أَنَا لَكَانَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنْ النَّارِ” . هَذَا بَاطِلٌ مُخَالِفٌ لِمَا فِي الصَّحِيحِ وَغَيْرِهِ فَإِنَّهُ كَانَ آخِرَ شَيْءٍ قَالَهُ : هُوَ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَأَنَّ الْعَبَّاسَ لَمْ يَشْهَدْ مَوْتَهُ مَعَ أَنَّ ذَلِكَ لَوْ صَحَّ لَكَانَ أَبُو طَالِبٍ أَحَقّ بِالشُّهْرَةِ مِنْ حَمْزَةَ وَالْعَبَّاسِ فَلَمَّا كَانَ مِنْ الْعِلْمِ الْمُتَوَاتِرِ الْمُسْتَفِيضِ بَيْنَ الْأُمَّةِ خَلَفًا عَنْ سَلَفٍ أَنَّهُ لَمْ يُذْكَرْ أَبُو طَالِبٍ فِي جُمْلَةِ مَنْ يُذْكَرُ مَنْ أَهْلِهِ الْمُؤْمِنِينَ كَحَمْزَةِ وَالْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ وَفَاطِمَةَ وَالْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ كَانَ هَذَا مِنْ أَبْيَنِ الْأَدِلَّةِ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ كَذِبٌ

“রাফেজী ও অন্যান্য জাহিল লোকেরা বলে যে, আবূ তালিব ঈমান এনেছিলেন। এ বিষয়ে তারা ইতিহাসে বর্ণিত যঈফ হাদীস থেকে দলীল দিয়ে থাকে। তাতে রয়েছে যে, তিনি মৃত্যুর সময় (ঈমান প্রসঙ্গে) গোপনে কিছু বলেছিলেন। তবে, আবূ তালিবের ঈমানের বিষয়ে যদি আব্বাস (রাযি.) আলোচনা করেই থাকেন; তাহলে কেন তিনি নবী (সা.) কে বললেন যে, আপনার পথভ্রষ্ট বৃদ্ধ চাচা (তার জীবদ্দশায়) আপনার অনেক কাজে আসত। আপনার দ্বারা তিনি উপকৃত হয়েছেন কী? তখন নাবী (সা.) বললেন:

“আমি তাকে জাহান্নামের গভীরে পেলাম, তাই তার ব্যাপারে সুপারিশ করলাম। ফলে তিনি জাহান্নামের হালকা জায়গায় চলে আসলেন। এখন তার পায়ে আগুনের জুতা আছে, সে কারণে তার মগজ টগবগ করছে। যদি আমি না থাকতাম, তাহলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করতেন।” [সহীহ বুখারী : ৬৫৬৪, সহীহ মুসলিম : ৩৬০-৩৬২]

সুতরাং এ দাবি সহীহ বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত ঘটনার বিপরীত। কেননা সর্বশেষ যে কথাটি তিনি (আবূ তালিব) বলেছিলেন, তা হলো: তিনি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের উপরই অটল রয়েছেন। আর আব্বাস (রাযি.) তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও যদি কথাটি সহীহই হয়, তাহলে আবূ তালিবই, হামযা এবং আব্বাস (রাযি.) এর চেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ হতেন। কিন্তু উম্মাতের পূর্বাপরের সকলের থেকে মুতাওয়াতির ও মুস্তাফিয বর্ণনার দ্বারা জানা যায় যে, রাসূল (সা.) এর পরিবারের মুমিনদের মধ্যে হামযা, আব্বাস, আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন (রাযি.)-দের ব্যাপারে যেরূপ আলোচনা করা হয়েছে, অন্য কোনো বর্ণনায় আবূ তালিবের ব্যাপারে এরূপ আলোচনা করা হয়নি। এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, কথাটি (আবূ তালিবের ইসলাম গ্রহণ) মিথ্যা।” [মাজমুউল ফাতওয়া লি ইবনু তায়মিয়াহ, ৪/৩২৭]

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বোঝার ও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


পরিবেশনায়: সত্যান্বেষী রিসার্চ টীম
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।


Tags: shottanneshi, abu, talib, er, islam, abu talib, ghulam, mustafa, zaheer, amanpuri, shaikhul, islam, allamah, ibn, taimiyyah, taimiya, shaikh, al, shaikh al islam, ibn taimiyyah, ibn taimiya, abu talib ki muslim chilo, abu taliber islam, সত্যান্বেষী, আবু তালিব, আবূ তালিব, আবু, আবূ, তালিব, এর, ইসলাম, গুলাম, গোলাম, মুস্তাফা, মোস্তফা, মোস্তাফা, যাহীর, যহীর, আমানপুরি, আমানপুরী, শাইখ, শাইখুল ইসলাম, ইবন, ইবনু, ইবনে, ইবন তাইমিয়া, ইবনু তাইমিয়া, ইবনে তাইমিয়া, আবূ তালিব কি মুসলিম ছিল, আবূ তালিবের ইসলাম।